শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
নারী সংস্কার নিয়ে রায়, আদালতের সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া!
অনলাইন ডেস্ক
নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশের কয়েকটি বিতর্কিত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট, যা আইনি অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২৬ মে) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায়ের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেন যে, সুপারিশ বাস্তবায়নের আগেই এ ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ সময়ের অপচয় মাত্র।
আদালত বলেন, “এই সুপারিশ এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। সেক্ষেত্রে রিটটি সময়ের আগে দায়ের করা হয়েছে। সরকার যদি সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়, তখন প্রয়োজন হলে রিটকারী আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।”
রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রওশন আলী, আর নারী কমিশনের পক্ষে দাঁড়ান অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। শুনানি শেষে গত ১৯ মে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয় এবং আজ আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
এর আগে, ৫ মে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয় নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোর সাংবিধানিকতা ও ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রওশন আলী এই রিট দায়ের করেন।
রিটকারী বলেন, ‘উইমেন রিফর্ম কমিশন রিপোর্ট, ২০২৫’-এর অধ্যায় ৩, ৪, ৬, ১০, ১১ ও ১২-তে যেসব সুপারিশ রয়েছে, তা ইসলামি শরিয়ত, সংবিধান এবং ধর্মপ্রাণ জনসাধারণের অনুভূতির বিরুদ্ধে। এসব সুপারিশের বিরুদ্ধে রিট দায়েরের কারণ সেখানেই।
৩১৮ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টটি সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। রিপোর্টে এমন কিছু প্রস্তাব রয়েছে যা একদিকে যেমন প্রগতিশীল চিন্তাধারাকে তুলে ধরেছে, অন্যদিকে তা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক নীতিমালার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে, অধ্যায় ১১-তে পুরুষ ও নারীর সমান উত্তরাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব কোরআনের সুরা নিসা (৪:১১)-এর বিরোধিতা করছে।
তাছাড়া, বহুবিবাহ নিষিদ্ধের প্রস্তাব ইসলামী শরিয়তের অনুমোদিত বিধান ও সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়েছে।
“My Body, My Choice” স্লোগানকে অন্ধভাবে সমর্থন করা, যৌনকর্মকে বৈধ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ট্রান্সজেন্ডার ও লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
রিটে তিনটি মন্ত্রণালয় ও নারী সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়, যার ফলে এই ইস্যুতে আরও আইনি ও সামাজিক বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।